এসে গেল আনন্দমেলার শুরুর দিকের একটি বিরল সংখ্যা
আমাদের উদ্দেশ্য পুরনো হারিয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলি সংরক্ষণ করা !
Cover Page
Content Page
Sample Pages
Information
Date - 1979.01
Year - 4, Number - 10
Pages - 56
PDF Size - 8.68 MB
Hard Copy, Scan & Edit - Sujit Kundu
Like Our Facebook Page


দারুন।এইসব আনন্দমেলা কোন্দিন পুরান হবে না।
ReplyDeleteAnek dhnayabad. Bishesh kare prachhad ta dekhe man bhare galo. ar shirshendu r galpo. !!!
ReplyDeleteধুলোখেলার সৌজন্যে জনপ্রিয় কিশোর পত্রিকা 'আনন্দমেলা'-র মাঘ ১৩৮৫ (জানুয়ারি ১৯৭৯) সংখ্যাটি পড়ার এক বিরল সুযোগ ঘটল, তাই শুরুতেই তাঁদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। প্রখ্যাত কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সুনিপুণ সম্পাদনায় প্রকাশিত এই সংখ্যাটি যেন খেলাধুলার নস্টালজিয়া, দিকপাল সাহিত্যিকদের রোমাঞ্চকর কলম এবং শিক্ষামূলক রচনার এক অনবদ্য মেলবন্ধন। শুরুতেই বলি বিমল দাশ মশাইয়ের প্রচ্ছদের কথা, এর কি তুলনা হয়!!
ReplyDeleteএই সংখ্যার ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে আছে সাতের দশকের শেষদিকের খেলাধুলা, বিশেষত ক্রিকেটের বাঁধভাঙা উন্মাদনা। সংখ্যাটির সূচনা হয়েছে কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের লেখা "কলকাতা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ" প্রবন্ধটি দিয়ে। ইডেন গার্ডেন্সের বুকে দুর্ধর্ষ ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে খেলার স্মৃতি এবং এভারটন উইকস বা রোহন কানহাইয়ের মতো মহারথীদের কথা তিনি এখানে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। এর পাশাপাশি, সম্পাদক নীরেন্দ্রনাথ স্বয়ং সুনীল গাভাসকারকে নিয়ে লিখেছেন অনবদ্য কবিতা "সানি", যেখানে গাভাসকারের ডাবল সেঞ্চুরির দাপট এবং বোলারদের শাসন করার অসামান্য ক্ষমতার বন্দনা করা হয়েছে। শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলের জাদুকর চুনী গোস্বামীর ধারাবাহিক আত্মজীবনীমূলক রচনা "খেলতে খেলতে"-র কিস্তিটিও এই সংখ্যার এক অমূল্য সম্পদ। ১৯৫৮ সালের টোকিও এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের নেপথ্য কাহিনি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপানের ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়ানোর রোমাঞ্চকর বিবরণ উঠে এসেছে তাঁর লেখনীতে। এছাড়া অশোক দাশগুপ্তের কলমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালোর টেস্টের তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ এবং নেতাজি স্টেডিয়ামে আয়োজিত গ্রাঁ প্রি টেনিসের মনোগ্রাহী পর্যালোচনা সংখ্যাটিকে সেকালের খেলাধুলার এক নিখুঁত আর্কাইভে পরিণত করেছে।
গল্প-উপন্যাসের পাতাগুলো সেজে উঠেছে বাংলা সাহিত্যের রথী-মহারথীদের কালজয়ী সৃষ্টিতে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের "লেজ" তেমনই একটি হৃদয়স্পর্শী ও কল্পনাপ্রবণ গল্প, যেখানে রুগ্ন, শান্ত ছেলে মল্লিনাথ এবং তার ড্রয়ারের বাসিন্দা একটি ছোট্ট সবুজ সাপের অদ্ভুত বন্ধুত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে; যে বন্ধুত্ব শেষমেশ এক গুপ্তধনের সন্ধান দিয়ে মল্লিনাথের জীবনটাই বদলে দেয়। রয়েছে আশাপূর্ণা দেবীর ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস "ভুতুড়ে কুকুর"। পরতে পরতে হাসি-মজা আর টানটান উত্তেজনার মোড়কে মোড়া এই উপন্যাসের অন্যতম পাওনা সুধীর মৈত্রের অসামান্য অলঙ্করণ। সেই সময়ে আনন্দমেলায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল বুদ্ধদেব গুহের জনপ্রিয় ঋজুদা সিরিজের উপন্যাস "বনবিবির বনে"। শীতের সুন্দরবনের রহস্যময় প্রেক্ষাপটে ঋজুদা তার তরুণ সঙ্গী রুদ্রকে শোনাচ্ছে জেঠুমণির বাঘ শিকারের গায়ে-কাঁটা-দেওয়া সব রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। আর গিরিধারী কুণ্ডুর "বুলাই" গল্পটির কথা আলাদা করে বলতেই হয়। রাবাংলা জঙ্গল থেকে আসা ধূর্ত ও পেটুক শিয়াল বুলাইকে জব্দ করার এই ক্লাসিক পশুকাহিনিটি সেকালে এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, পরবর্তীকালে এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি বই হিসেবেও প্রকাশ পেয়েছিল।
এসবের পাশাপাশি বিশ্ববিখ্যাত কমিক্স 'টারজান' এবং 'টিনটিন' ("লাল বোম্বেটের গুপ্তধন")-এর ঝরঝরে বাংলা অনুবাদ এই সংখ্যার অন্যতম বড় আকর্ষণ। ভ্রমণ ও জ্ঞানবিজ্ঞানের তৃষ্ণা মেটাতে রয়েছে অভি দাশের "নারিকেলের দ্বীপমালা", যেখানে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ভূগোল, কুখ্যাত সেলুলার জেল বা 'কালাপানি'-র ইতিহাস এবং স্থানীয় আদিবাসী জীবনের চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ বর্ণনা রয়েছে। অন্যদিকে, শঙ্খ ঘোষ তথা 'কুন্তক'-এর "মজার পড়া" বিভাগে ইংরেজি বানান ও উচ্চারণের গোলকধাঁধা নিয়ে মজাদার আলোচনা করা হয়েছে—কীভাবে ব্যাকরণের মারপ্যাঁচে 'ghoti' শব্দটির উচ্চারণ 'fish' হতে পারে, তার হাস্যরসাত্মক ব্যাখ্যা পাঠকদের নির্মল আনন্দ দেয়। সব শেষে বুদ্ধির কসরতের জন্য ধাঁধা, কচিকাঁচাদের চিঠিপত্রের প্রিয় পাতা "তোমাদের পাতা" এবং গাভাস্কারের পাতাজোড়া রঙিন পোস্টার পত্রিকাটিকে সম্পূর্ণতা দিয়েছে। সব মিলিয়ে 'আনন্দমেলা'-র এই সংখ্যাটি কেবল একটি পত্রিকাই নয়, বরং সেই সোনালি অতীতের এক নিখুঁত ও অমূল্য দলিল।